পেঁয়াজ চাষে প্রধান সমস্যা ও সমাধান । আধুনিক উপায়ে পেঁয়াজ চাষ । #পেঁয়াজ_চাষ_পদ্ধতি

পেঁয়াজ চাষে প্রধান সমস্যা ও সমাধান । আধুনিক উপায়ে পেঁয়াজ চাষ । পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

Onion Cultivation পেঁয়াজ চাষের প্রধান তিনটি সমস্যা…
১। আগাছা
২। পোকা
৩। ছত্রাক জনিত রোগ (purple blotch)

#পেঁয়াজ #পিঁয়াজের_চাষ

বাংলাদেশের একটি অর্থকরী মসলা ফসল। দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই পেঁয়াজের চাষ হয়। জলবায়ুর পরিবর্তন, বৈরী আবহাওয়া এবং বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ ইত্যাদির কারণে বাংলাদেশে পেঁয়াজের জাতীয় গড় ফলন (৯.৭৩ টন/হেক্টর) বিশ্বব্যাপী গড় ফলন (১৭.২৭ টন/হেক্টর) অপেক্ষা কম। বর্তমানে দেশে ১.৭৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে ১৭.৩৮ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে (বিবিএস,২০১৮)। আমাদের দেশে যে পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় তা দিয়ে দেশের মোট চাহিদার মাত্রা ৫৭.১৪% মিটানো সম্ভব। এ থেকে বোঝা যায় যে, দেশে পেঁয়াজের বিশাল ঘাটতি রয়েছে। প্রতি বছর চাহিদা পূরণের জন্য বিপুল পরিমাণ কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা (৫০০-৬০০ কোটি টাকা) ব্যয় করে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। পেঁয়াজের বাল্বের ফলন বৃদ্ধির জন্য মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আমাদের দেশে পেঁয়াজের বীজের ফলন হেক্টরপ্রতি গড়ে ২৫০-৩৭০ কেজি যা অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই কম (১৯৯৪)। বর্তমানে আমাদের দেশে উন্নত জাত, সঠিক সময়ে ও সঠিক মাত্রায় সার, সেচ ও বালাই দমন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পেঁয়াজের বীজের ফলন বৃদ্ধিসহ মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। জাত ও বৈশিষ্ট্য : এ দেশে এখনও দেশী জাতের পেঁয়াজের চাষাবাদ হয়ে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্র হতে বারি পেঁয়াজ-১ (শীতকালীন), বারি পেঁয়াজ-২, (গ্রীষ্মকালীন), বারি পেঁয়াজ-৩ (গ্রীষ্মকালীন), বারি পেঁয়াজ-৪ (শীতকালীন), বারি পেঁয়াজ-৫(গ্রীষ্মকালীন) ও বারি পেঁয়াজ-৬ (শীতকালীন) নামে ৬টি জাত মুক্তায়িত হয়েছে। আবহাওয়া : যে সমস্ত স্থানে খুব বেশি ঠাণ্ডা বা গরম পড়ে না এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয় না সে সব স্থানে পেঁয়াজ এবং বীজ খুব ভালো হয়। যেখানে বছরে ৭৫ থেকে ১০০ সেমি বৃষ্টিপাত হয় সে সব স্থানে পেঁয়াজ ভালো হয়। বীজ উৎপাদনের জন্য পুষ্পায়নের সময় মোটামুটি ঠাÐা তাপমাএা প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় ৪.৫ ডিগ্রি থেকে ১৪ ডিগ্রি সে তাপমাত্রায় প্রতিটি কন্দে অধিক সংখ্যক ফুল ও পুষ্ট বীজ গঠিত হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। এই ঠাÐা তাপমাত্রা উৎপাদন মৌসুমে বিশেষ করে জানুয়ারী – ডিসেম্বর মাসে বিদ্যমান থাকে। মাটি : পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাযুক্ত গভীর, ঝুরঝুরে হালকা দো-আঁশ বা পলিযুক্ত মাটি পেঁয়াজ বীজ চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। মাটির পি এইচ ৫.৮-৬.৮ থাকলে পেঁয়াজের কন্দ ও বীজের ফলন ভালো হয়। যেসব জমিতে পানি জমে সে সব জমিতে পেঁয়াজ বীজ মোটেও ভালো হয় না। বীজ উৎপাদন পদ্ধতি : বীজের ফলন যতগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল তার মধ্যে বীজ উৎপাদন পদ্ধতি অন্যতম । দুটি মৌলিক পদ্ধতির মাধ্যমে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা যায়: ১.বীজ থেকে বীজ এবং ২.কন্দ থেকে বীজ : উন্নত ও অধিক ফলনের জন্য কন্দ থেকে বীজ উৎপাদন পদ্ধতি সবচেয়ে উপযোগী হওয়ায় আমাদের দেশে সাধারণত কন্দ থেকে বীজ উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কন্দ থেকে বীজ উৎপাদন মাতৃকন্দ সংগ্রহ : সাধারণত উৎপাদিত পেঁয়াজ ফসল থেকে মাতৃকন্দ সংগ্রহ করা হয়। বীজ উৎপাদনের জন্য ৪-৬ সেমি. ব্যাসের কন্দ উপযুক্ত । বীজের বিশুদ্ধতার জন্য কন্দ উৎপাদন মৌসুমে সতর্কতার সাথে অস্বাভাবিক পত্রগুচ্ছ, রোগাক্রান্ত পেঁয়াজ গাছ ক্ষেত থেকে তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। পরিপক্ব পেয়াজ কন্দ, চিকন গলা এবং রোগ মুক্ত পেঁয়াজের মাতৃকন্দ সংগ্রহ করতে হবে । মাতৃকন্দ সংরক্ষণ : পেঁয়াজ কন্দ উত্তোলনের পর এর পাতা ও শিকড় কেটে ৭-১০ দিন বায়ু চলাচল সুবিধা যুক্ত শীতল ও ছায়াময় স্থানে শুকিয়ে নিতে হবে । এরপর যথারীতি মাতৃকন্দের জন্য বাছাই ও শ্রেণীবিন্যাস করে বায়ুময় গুদামে সংরক্ষণ করতে হবে। মাঝে মাঝে পচা বা শুকনা পেঁয়াজ বেছে সরিয়ে ফেলতে হবে। রোপণ মৌসুম : পেঁয়াজের রোপণ সময়ের ওপর বীজ উৎপাদনের অনেক প্রভাব রয়েছে। বেশি আগাম অর্থাৎ অক্টোবরের মাঝামাঝি পেঁয়াজ রোপণ করলে পুষ্পদÐে প্রতি কদমে ফুলের সংখ্যা অনেক কম হয় । আবার ডিসেম্বর মাসে রোপণ করলে গাছের বৃদ্ধি কম হয়। কদমে কম সংখ্যক ফুল আসে এবং পার্পল বø­চ রোগ ও থ্রিপস পোকার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া বিলম্বে রোপণ করলে বীজ ফসল কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । তাই অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বর মাসের প্রথম হতে মাঝামাঝি পেঁয়াজের মাতৃকন্দ রোপণের উপযুক্ত সময়। এ সময়ে পেঁয়াজ কন্দ রোপণ করলে উক্ত বীজ ফসল খুব ভালো ফলন দেয়। মাতৃকন্দ নির্বচান : পেঁয়াজের আকার ছোট হলে গাছ দুর্বল হয়। ফুলদÐ চিকন ও হালকা হয় এবং সহজেই বাতাসে ভেঙে পড়ে। তাছাড়া উক্ত ফুলদÐের কদমে ফুল কম ধরে ও ছোট হয় এবং বীজের ফলনও খুব কম হয়। বারি পেঁয়াজ-১ ও বারি পেঁয়াজ-৬ জাতের ৩০-৩৫ গ্রাম ওজনের কন্দ এবং তার ব্যাস যদি ৪.০ সেমি হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি বীজ উৎপন্ন হয়। বারি পেঁয়াজ- ২, বারি পেঁয়াজ-৩, বারি পেঁয়াজ-৪ ও বারি পেঁয়াজ-৫ জাতের ক্ষেত্রে ৪০-৪৫ গ্রাম ওজনের কন্দ থেকে সর্বাধিক পরিমাণ বীজ উৎপাদন হয়। জমি তৈরি : বীজ উৎপাদনের জন্য জমি ভাল সমাধান…. নিন……… আধুনিক উপায়ে পেঁয়াজ চাষ করলে ফলন হবে… Thanks for watching Please comments, share and subscribe my channel………

#পেঁয়াজ #পিঁয়াজের_চাষ

Leave a Comment